Tthe Devil Queen । বাংলা ভুতের গল্প
November 19, 2023
0
প্রথম পর্ব ঃ -
থাইল্যান্ডের নর্থ উইন্ডোজ নামে একটি দ্বিপারূপের দিক দিয়ে ভারি সুন্দর। মানুষ ও বাস করে সেথায় জনাকতক।তবে এই দ্বিপটিতে এখনও এক অজানা পদ্ধতিতে শাষন চালানো হয়।সে শাষনের কায়া ভারী নিষ্ঠুর ভারী নির্মম।
আমরা জানি, থাইল্যান্ড একটি দ্বীপ কেন্দ্রীক দেশ। বহু মানুষ সেখানে বেড়াতে যান।সেই জায়গায় অনেক মুভিও সুট্ হয়।তবে আমার বাবা সেখানে গিয়েছিলেন কর্মসূত্রে। তাই বাবার সাথে আমাকে মাকে আর দাদাভাই কেউ সেখানে যেতোভীষণ রাগ হয়েছিল সেবার। বাবাকে বলেছিলাম বাবার এই কাজ ছেড়ে দিতে।কেন বাবার জন্য সবসময় আমাকে দাভাইকে আর মামমামকে এতো হেরাস হতে হয়। আমার স্কুলে অ্যানোয়াল ফাংসান ছিল। আমি পার্টিসিপেট করেও পারফর্ম করতে পারিনি।
দাভাই কেউ তার কলেজ ছেড়ে ওই নর্থ উইন্ডোজ দ্বীপ এ যাওয়ার জন্য লাগেজ প্যাক করতে হয়। বাবা বলেছিলেন সেদিন, যদি এই কাজটা সাক্সেক্সফুরি করতে পারি তাহলে আর আমাদের আর পিছন ফিরে তাকাতে হবেনা। আমার বাবার কাজটাই ছিল কেমন যেন অদ্ভুত ধরনের।কখনও জানতে দেননি আমাদের, বলতেন আমরা যদি জানি তাহলে ভিষন বিপদ হয়ে যেতে পারে।তাও বাবার কাছে বহুবার জানতে চেয়েছি কিন্তু সে বলে নি।আমাদের আর্থিক অবস্থা মোটেই খারাপ ছিল না, তাই বাবাকে এই টান্সপারটা আটকাতে বলেছিলাম, কিন্তু, সে বলেছিল, তার জন্য এই কাজটা বড্ড জরুরি। আর এই কাজে এবার নাকি তার সঙ্গে দাভাইকেও প্রয়োজন।
ফ্লাইটের টিকিট বুক হয়ে গেল। এক সপ্তাহ পর ফ্লাইট। বাবা বললেন এই সাতদিনের মধ্যে এই শহরে যার সাথে যা কথা বলার বলে নাও ঘুরে নাও। এমনও হতে পারে যে আমরা এদেশে আর নাইবা ফিরলাম।
খুব কষ্ট হয়েছিল কথাটা শুনে, ভীষণ রকম রাগ হয়েছিল। কি বলছে বাবা এইসব সেদিন রাতে দাভাই কে ফোনে কারোর সাথে কথা বলতে শুনেছিলাম।দাভাই ভীষণ কাঁদছিল। খুব ইচ্ছে করছিল দাভাইকে গিয়ে বলি শোন না দাভাই তুই বাবাকে রাজি করা না বলনা ওখানে না যেতে?
কিন্তু সত্যি কথা বলতে পারিনি সেখানে যেতে, দাভাই কে বলতে।কেবলই কেঁদেছি আমরা। চোখের নিমেষে সাতটা দিন কেটে যায়। আজ আমাদের ফ্লাইট।না কোনো আনন্দ হচ্ছে না আমাদের।বাবার অফিসের বস্ আমাদের সাথে এয়ারপোর্ট ওবদি এসেছিল।কি নিয়ে যেন কথা বলছিল।কি যেন একটা কুইন বলছিল।স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছিল না কিছুই। আজ মা ও কেঁদেছে।
আমার গাড়ি থেকে নেমে ভিতরের দিকে যাই। বাবা তখনও কথা বলছেন। প্রায় দশ মিনিট পর বাবা আমাদের কাছে আসেন।আমাদের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে আমাদের আর কিছু বলেননা।
ফ্লাইট নাম্বার ঘোষণা করতেই আমরা এগিয়ে যাই লাগেজ গুলো কে আলাদা রেখে এগিয়ে যেতে হয় আমাদের। আমরা এগিয়ে গিয়ে সিটে বসি। আমার ছিল উইন্ডো সিট।কয়েকবার ফ্লাইটে এদিক সেদিক ঘোড়ার কারণে আমাদের এখন আর অসুবিধা হয় না।
বারো ঘন্টার জার্নি।আবার নাকি হেলিকপ্টারে যেতে হবে সাত ঘণ্টা।হিসাবে করে দেখলাম আমাদের ভারতীয় সময় অনুযায়ী আমরা কাল ভোরে পাঁচটায় সেখানে গিয়ে পৌছাবো। এবং তারপর আরও সাতঘন্টা হেলিকপ্টারে। মোট কথা রুমে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমাদের একটা বেজে যাবে।
ডিনার সেরে ওয়াসরুম থেকে এসে বাবাকে দেখছি, ল্যাপটপ খুলে কি যেন একটা খুব মনযোগ সহকারে পড়ছে। আমি আমার সিটে বসে সিটবেল্টটা আঁটকে নিই।অভিমান রাগে দুঃখে চোখের কোনা ভিজে আসে কিন্তু বাবার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।নিজের মনে ল্যাপটপে কাজ করছে। আমি আমার সিটে বসে খাঁচবন্দি
ডিনার সেরে ওয়াসরুম থেকে এসে বাবাকে দেখছি ল্যাপটপ খুলে কি যেন একটা খুব মনযোগ সহকারে পড়ছে। আমি আমার সিটে বসে, সিটবেল্টটা আঁটকে নিই।অভিমান, রাগে দুঃখে চোখের কোনা ভিজে আসে কিন্তু বাবার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।নিজের মনে ল্যাপটপে কাজ করছে। আমি আমার সিটে বসে কাঁচবন্দি জানালার মধ্যে দিয়ে নিচের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলাম।
কিন্তু বৃথা সে চেষ্টা করা। হঠাৎই একজন এয়ার হোস্টেজ তখন ড্রিংক নিয়ে আসেন। এটা হয়েই থাকে ফ্লাইটে। প্রত্যেকবারের মতো এবারও বাবাকে দেখলাম একটা কক্-টেল্ নিতে।বিরক্তিতে সেদিক থেকে চোখ ফেরাতে যাবো, চোখ আটকে গেল, বাবার লিপটপের স্ক্রিনে।
কি বিশ্রী বিদ্যুটে একটা ছবি।গা টা গুলিয়ে উঠল আমার বাবা সঙ্গে সঙ্গে লিপটপের স্ক্রিন আমার থেকে আড়ালে নিলেন। একটা শান্ত কিন্তু তিক্ষ্ণ বকা দিয়ে আমাকে ঘুমাতে বললেন। বকা খেয়ে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলাম।নিঃশব্দে চোখের থেকে গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোঁটা জল।বাবা অবস্য সেদিকে লক্ষ্যই করেনি।
রৌনাক, কাম্।কাম্ অনূ ডার্লিং। “ইয়েস, মাইজেস্টি,অ্যাই উইল কাম ইন ফর ইউ।
একটা অন্ধকার স্যাঁতস্যাতে জায়গা। একটা বিশ্রী গন্ধে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।চারিধারে নরকঙ্কাল। একটা বিশাল প্রাসাদ।ঠিক রূপকথার গল্পে শোনা প্রাসাদের মতো। কিন্তু এখানে কোনো মানুষ থাকতে পারে না। চারিদিকে হাড় কঙ্কালের স্তূপ। এক ধরনের লতানো বৃক্ষ তার অস্তিত্ব বজায় রেখেছে সম্পূর্ণ জায়গাটা জুড়ে।
সামনে একজন মহিলা ।ভারী রূপসী তিনি।কিন্তু সে এগিয়ে চলেছে। আর আমি তার পিছনে। হঠাৎই একটা পিচ্ছিল কিছুতে আমার পা পড়ে আর আমি পড়ে যাই। একটা কিছু নরম জিনিসের ওপর আমি পড়েছি কি বাজে গন্ধ সেটা থেকে বেড় হচ্ছে।ঠিক করে তাকিয়ে দেখি একটা গলা পছা খুবলে যাওয়া মৃতদেহের ওপর আমি পড়ে আছি।সেটা নারী না পুরুষ, বোঝা যায় না। হঠাৎই সেই মৃতদেহ যেন প্রান ফিরে পায়। তার গলা পচা মাংসঝড়া হাত দিয়ে আমার গলার নলি চেপে ধরে। “আহ বাঁচাও বাঁচাও।প্লিজ সে মি।প্লিজ সেভ মি
"রোনাক, রৌনাক?হোয়াট হ্যাপেন্ড বেটা।
“মম্।তুমি।প্লিজ আমাকে বাঁচাও প্লিজা"
“বেটা আমি আছি তো। তোমার কিছু হবে না। আমি আছি তো।তাকাও আমার দিকে।রোনাক বেটা আমার দিকে তাকাও।
রোনাক ধীরে ধীরে চোখ খুলে তার মায়ের দিকে তাকিয়েই সে তার মাকে জড়িয়ে ধরে। এতোক্ষনে ফ্লাইটের প্রায় সবাই জেগে গেছে। দু'চার জন এয়ার হোস্টেজও ছুটে এসেছে।রোনাক কে জল খাইয়ে তাকে শান্ত করা হয়। ফাউনের প্রায় সবাই কেউ হাসছে কেউ বা চরম বিরক্তি নিয়ে তাদের দিকে তাকাচ্ছে।
নাউ ইউ আর ফাইন স্যার।"
"ইয়েস।"
-ওকে স্যার,ইউ টেক রেস্ট প্লিজ।
“কি হয়েছে রৌনাক?তুমি স্বপ্ন দেখেছো?
“হ্যাঁ, মম।ও আমাকে মেরে ফেলছিল। খুব বাজে দৃশ্য দেখলাম মম আমি। খুব বাজে।
-ওকে বেটা আমরা সবাই তো আছি।কিচ্ছু হবেনা তোমার?”
দাভাই খারাপ স্বপ্ন দেখেছে যে কিনা মেডিকেল নিয়ে পড়ছে সে ভূতের স্বপ্ন দেখছে? আমার খুব অবাক লাগছিল। সেই সাথে বাবার মুখের দিকেও তাকিয়ে ছিলাম।চরম বিরক্তি আর তিরস্কার লেগে ছিল সেই মুখে। অবস্থা সামলে নেওয়ার জন্য বাবা সকলের উদ্দেশ্যে বললেন,
“গাইজ প্লিজ টেক অফ ইউওর সিট।এন্ড প্লিজ টেক রেস্ট।উই আর রিয়েলি ভোরি সরি।প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড প্লিজ।
আর ঘুম আসেনি সে রাতে।তবে ভীষণ জানতে ইচ্ছা করছিল, যে দাভাই কি এমন দেখেছোনা আর জানা হয়নি তবে আগ্রহ টা মনের মধ্যে রয়েই গেছে। যথাসময়ে ফ্লাইট থেকে নামলাম। এরপর আমাদের দ্বিতীয় গম্ভব্য নর্থ উইন্ডোজ দ্বীপ।
সত্যিই জায়গাটা দেখার মতো। আমরা এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হলাম। এখান থেকে সারে ছ'টা নাগাদ একটি হেলিকপ্টারে আমাদের নিয়ে যাওয়া হবে আমাদের দ্বিতীয় গন্তব্যে।
আবারও একটা উরানের জন্যে রেডি হলাম।তবে এবার হেলিকপ্টারে। বেশ মজা লাগছে এবার। প্লেনে উঠলেও হেলিকপ্টারে উঠিনি কখনও, তাই ভীষন ভয় লাগছিল প্রথমে। এখন ঠিক আছে।নীচে নীল সমুদ্র।চারিপাসে জল।তার ওপর দিয়ে আমরা ভেসে চলেছি।সূর্য টাকেও খুব সুন্দর লাগছে। আমাদের পাশ দিয়ে কিছু নাম না জানা বড়ো বড়ো ডানাওয়ালা সি-গ্রিন কালারের কিছু পাখি উড়ে গেল।সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করলাম সেই দৃশ্য ।
সবসময় দাভাই এটা করে, তবে আজ দাভাই কেমন যেন চুপচাপ চারিপাস নিঃশব্দ। হেলিকপ্টারের পাখার শব্দ আর দূরে অদূরে কোথাও হয়ত সমুদ্রের ঢেউ আচরে পরছে তার শব্দ। আমরা সেই দ্বীপে গিয়ে পৌঁছালাম তখন বারোটি পয়তাল্লিশ।চারিপাস সমুদ্রে ঘেরা, অপরূপ মনোরম একটি দ্বীপ।তবুও কিসের যেন একটা হাহাকার রয়েছে এই সৌন্দর্যের মধ্যেও।
_____________________________
ক্রমশ............................................................।
