দ্বিতীয় পর্ব.........
দারুণ লাগছে চারিপাসটা। দশ মিনিট হেঁটে যেতে হবে। তারপরই আমাদের বাংলারোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। খুব সুন্দর চারিপাশের পরিবেশ। সাদাবালির ওপর খুব সুন্দর করে টাইল্স বসানো রাস্তা। হাঁটতেও বেশ ভালো লাগছে। অদূরে সমুদ্রের পাড়ভাঙা শব্দ। আকাশটা একেবারে শান্ত সম্পূর্ণ নীল মাঝে মাঝে সাদা মেঘের ভেলা উড়ে যাচ্ছে।বকের মতো দেখতে একধরনের পাখিও উঁড়ে চলেছে। Hd picture গুলোতে আকাশগুলোকে ঠিক যেমনটা দেখায় অনেকটা তেমন। আমি তো আকাশের দিকে তাকিয়েই হাটছিলাম, হঠাৎই কেমন একটা পিচ্ছিল জিনিসে আমার পা পড়ল, আর আমি শুকনো মাটিতে ইলিশ মাছ ধরলাম। লাল আর কালোর মিক্সচার "তৈরী করলে যেই রঙটা হয়, ঠিক তেমন রঙের একটা কেমন জেলির মতো জিনিস।
কি কিভাবে পড়লে একটু তো দেখে হাটবে।.....
সরি মম। অ্যাকচুয়ালি ওখানে কি একটা জেলির মতো ছিল, ওটাতে পা পিছলে “কই দেখি.....
---- রোজসের কথা শেষ করতে না দিয়েই মিষ্টার গোমস এগিয়ে গেলেন, কিন্তু আশ্চর্য কোথাও কিছু নেই একেবারে ঝকঝকে পরিষ্কার রাস্তা।
"what rubbish rose.....!! R you jokeing...
sorry papa.....
সত্যিই তো কোথাও কিছু নেই। কিন্তু রোজস সিওর ওখানে কিছু একটা ছিল। কিন্তু এখন কোথায় গেল। তাই বাধ্য হয়েই নিজের পাপাকে সরি বলল। কারন এটা ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। পাপাকে কি বলবে, কোনো প্রমাণই নেই ।
মিষ্টার এবং মিসেস গোমস এগিয়ে গেলেন, ওদের নিতে আসা লোকটির সাথে রৌনক রোজের কাছে দাঁড়িয়ে গেল। হয়ত বোনের অবস্থা কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে।
"what happend rose any problems...??"
yes, but I do not understand exactly what happened...? I feel like I slipped on something slippery but now there's nothing left...
- ok, leave it at that then dad will talk again. so let's go sis.....
"ok -
রোনক বুঝতে পারে কিছু না কিছু একটা গন্ডগোল আছে। কিন্তু রোজস কে সেটা বলা যাবেনা, বা বোঝানো যাবেনা। এরপর ওরাও ওদের মম এবং ড্যাডকে অনুশরন করে এগিয়ে যায়। ওদের দুজনের কাছেই কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে ওরা এগিয়ে ঠিকই যাচ্ছে, কিন্তু বারবার পিছনে তাকাচ্ছে। রাস্তার দুপাশের নারকেল গাছের সারি, পাম গাছের সারি, আরও লবনাক্ত দ যেন ওদের এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই ঘন সন্নিবেশ স্থাপন করছে। এই দ্বীপ সুন্দর হলেও, ভীষণ নির্জন। ভীষণ শান্তশিষ্ট মারাত্মক রকম নীরব, যা কখনোই কোনো মানুষের বসবাসের স্থানের ক্ষেত্রে হয়না।
অবশেষে ওরা ওদের গন্তব্যে পৌঁছোল। একটি দোতলা বাড়ির সামনে ওরা দাড়িয়ে। সাদারঙের বাড়ি
কার্নিসে সুন্দর করে টাইল্স বসানো। জানালায় সুন্দর সার্সি। এক অদ্বিতীয় লহমা। বাড়ির সামনে ছোট্ট একটা বাগান। সেখানে সাইনাস গাছ রয়েছে, সাথে কয়েকটি নাম জানা ফুলের গাছ। কিন্তু, ভারী সুন্দর লাগছে বাগানটা। বাগানে একটা ছোট টি-টেবিল সাথে দুটো মোড়া। বাড়ির গেটের কালো ফলকে সুন্দর লাল রঙ দিয়ে খোঁদাই করা থ্রিলিং হাউস.......
- এই দাভাই দেখ, নামটা কি মজার...!! -
- হুম, তাইতো দেখছি, তাহলে এখন আপনার মুড ঠিক হয়েছে তো..??
"হুম"
- তাহলে এবার আমরা ভেতরে যাই...
- হ্যাঁ, চ....
বাড়ির বায়রেটা ঠিক যতটা সুন্দর, ভেতরটা আরো সুন্দর। এমন একটা দ্বিপেও যে এতো সুন্দর আলিশান মহল থাকতে পারে, সেটা ভাবাই যায়না। ভেতরের ঘরগুলোতে কি দারুন কারুকার্য করা, মেঝেতে মার্বেল বসানো। পুরো বাড়ির দেওয়াল জুড়ে নানান ধরনের ফটোগ্রাফি।
নিচে তিনটে রুম। দুটো মেইনরুম এবং একটি গেস্টরুম। বড়ো ডাইনিং রুম, তারই পাশ দিয়ে কিচেনে যাওয়ার পথ। দারুণ সুন্দর ভাবে সেটাও সাজানো। দেখে মনে হবে মডউলার কিচেন, মডউলার ডাইনিং মডউলার এভরিথিং...
এতোক্ষন পাপার প্রতি রাগ হলেও এবার বেশ ভালোই লাগছে। কিচেনের পাশ দিয়ে বাঁকানো কারুকার্য করা অনেকটা স্বচ্ছ কাচের পাতের মতো কিছু দিয়ে শিঁড়িটা তৈরী। সেই শিড়ি বেয়েই রোনক, এবং রোজস উঠে গেল দোতলায়।
দোতলাটাও ভারী নিপুণ ভাবে সাজানো। এখানে দুটো মেইনরুম, এবং একটা স্টোররুম। এখানেও একটা ডাইনিং প্লেস রয়েছে, তবে তার একপাশে রয়েছে আরও একটা ছোট রুম, দরজাটা টার্চ করতেই দরজাটা খুলে গেল, এটা একটা স্ট্যাডি রুম। কতোগুলো বুকরাক, তাতে কতধরনের বই ঠাসা। সাথে একটা স্ট্যাডি টেবিলও রয়েছে। তবে এই পুরো বাড়িটা দেখে কেউ বলবে না, যে এই বাড়িটা গত কয়েকবছর ধরে বন্ধ পড়েছিল। ডাইনিং এ এসে ওরা আর একটা জিনিস দেখে অবাক হলো, একটা পিয়ানো রাখা রয়েছে। কে বাঁজাত এই পিয়ানোটা, দুজনের মাথাতেই একই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকল
ঘরগুলো দেখার পর যেই ঘরটায় ব্যালকনি রয়েছে সেই ঘরটাই আবদার করল রোজস। রোনক কি বারন করতে পারে তার আদরের বোনকে। দিয়ে দিল পারমিশন।
সবই ঠিকঠাক ছিল। হঠাৎই রোজের চিৎকার শুনতে পায় রোনক, পাশের ঘরে গিয়ে দেখে রোজ একটা ফটোফ্রেমের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ওর চোখ যেন ঠিকরে বেড়িয়ে আসছে। এতো ভয়ংকর ছবি কেউ নিজের
বেডরুমে রাখে।রৌনকও ছবিটা দেখে কিছুটা চমকে ওঠে। ওর কিছু মনে পড়তেই বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
রৌনক কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, হঠাৎই মি. এন্ড মিসেস গোমস ওপরে এসে হাজির। ছেলে মেয়ের মুখের অবস্থা দেখে ওনাদের বুঝতে বাকি থাকেনা যে এখানে কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু কি সেটা...!!!
এখনও মিস্টার গোমসের চোখে মুখে সেই এক বিরক্তি। উনি ছবিটির দিকে তাকায়, তারপর কি ভেবে বাড়ির কেয়ারটেকার কে দিয়ে ছবিটা সরিয়ে দিতে বলে, ওদের দুজনকেই রেস্ট নিতে বলেন..!!
ওনারা নীচে চলে যান। আসবাবপত্র থাকলেও নিজেদেরকে তো নিজেদের জিনিস গুছিয়ে নিতে হবে। এলিনা, এবং রিনল্ড সেই কাজেই লেগে পড়ে। রিনন্ডের অবস্য এখন একটু খেয়ে ঘুম দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তার মহাশয়া যে এখন তাকে ঘুমাতে দেবে না, এটা সে ভালো ভাবেই বুঝে গেছে।
• বাড়িটার নেমপ্লেট টা দেখে অবাক হয়েছিলাম তবে বাড়িটার ভেতরে এসে এখন তো এই বাড়িটাকেই ভালোবাসতেই ইচ্ছা করছে। রিন তুমি আগে বলোনি তো আমরা একটা এতো সুন্দর বাংলোতে থাকতে চলেছি তাহলে এতো মনখারাপ হতো।
আরে ডালিং, সব যদি বলেই দিতাম, তাহলে তোমরা কি এতোটাও খুশি হতে এই বাড়িটা দেখে -
- হুম, তা অবস্য ঠিক কিন্তু রিন তোমার কি মনে হয়না, এই জায়গাটা প্রয়োজনের বেশীই নির্জন নিরব!
- হুম, তবে আমার রিসার্চের জন্য পারফেক্ট, আর আমার সুন্দরী বউকে আদর করার জন্যও পারফেক্ট। কতোদিন একটাও ডিপলি কিস করোনা বলোতো...?? এখানে কিন্তু আর ছারছি না...
- ইস, ছেলে মেয়েরা দেখলে বেহায়া একটা
yes, I'm a very sex addicted person......
"yes. I know.lin
"hey one kiss please.....
no Rin......
এখানে একটু পরিচয় দেওয়া জরুরি -
রিনল্ড গোমস : বয়স পঁয়তাল্লিশ। তবে দেখে মনে হবে এই তিরিশ বত্রিশ বছর বয়েস। কঠোর ভাবে ডায়েট চাট মেনে চলে, এবং জিম করায় এখনও দেহের ভাঙন ধরেনি। সুঠাম, পেশীবহুল দেহ এতোটুকুও মেদ নেই শরীরে। আর সত্যিই সে ভীষণ পরিমাণে যৌন আশক্ত।তার এই বৈশিষ্ট্যের পরিচর আপনারা ধীরে ধীরে পাবেন। উনি পেশায় একজন ডিটেকটিভ। তবে উনি ঠিক ন্যাচারালি কোন বিষয়ের ডিটেকটিভ তা এখনও তার পরিবারের কাছে অজ্ঞাত।
এলিনা গোমস : বয়স আন্দাজ চল্লিশ। তবে শরীরের ভাজ, কিংবা গঠন দেখে বোঝার উপায় নেই তার বয়স পঁচিশ না চল্লিশ। অত্যাধিক ফর্সা এবং মাথায় লম্বা ব্রাউন কালারের স্টেট চুলে তাকে কোনো বিদেশীনির থেকে কম বলা চলে না। দুটো সন্তানের মা হওয়ার পরেও এমন মেদহীন চিকন শরীর ক'জন ভারতীয় মহিলা ধরে রাখতে পারে। তাকে দেখলে এখনও যেকোনো পুরুষেরই দেহে হরমোন ক্ষরণ শুরু হয়ে যেতে পারে।উনি হাউস ওয়াইফ। আর বাকি বিষয়গুলো গল্পে জানতে পারবে।
রৌনক এবং রোজস : এলিনা এবং রিনল্ডের ছেলে মেয়ে। যথেষ্ট সুন্দর এবং দীপ্তিময় দুজনেই। রোনকের বয়স একুশ এবং রোজের সতেরো। বাবা মায়ের রূপ লাবণ্য যেন ঈশ্বর নিজে হাতে ওদের শরীরে সপে দিয়েছি। আর বাকি তথ্য তো এর আগের পর্বেই পেয়েছেন সবাই।
এখন এই চারজন প্রধান চরিত্রের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিলাম। বাকিদের সাথে ধারাবাহিকের কাহিনীতেই পরিচিত হবেন।
........................................................................................................................................
আপাতত গল্পটি আজ এইটুকুই দিচ্ছি। তোমাদের যদি ভালো লাগে তাহলে গল্পের পর্ব প্রকাশিত করার দিনসংখ্যা বাড়াবো। নয়ত শনিবার এবং রবিবার কেবল এইদুটো দিন দেব। গল্পটির পেক্ষাপট আমি যেভাবে কল্পনা করেছি, তাতে তোমদের ভালোই লাগবে। এবং এটা আমার লেখা দ্বিতীয় ভূতের গল্প।যদিও বিষয়টার ওপর গল্প পড়তে ভালো লাগলেও, যখন লিখি ঠিক তারপরই আমি চরিত্রগুলোকে হ্যালুসিনেট করি, তবুও লিখলাম নতুনত্ব কিছু। আশা করছি সকলে পাশে থাকবে। আর কেমন হচ্ছে প্লিজ জানিও..
